মুসলিম ব্রাদারহুড শেষ: সিসি

Monday, May 5, 2014

মিসরের নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অগ্রবর্তী প্রার্থী ও সাবেক সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। গতকাল সোমবার একই সঙ্গে তিনি বলেন, মুসলিম ব্রাদারহুড শেষ হয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, মিসরের বেসরকারি সিবিসি ও অনটিভির যৌথ সাক্ষাত্কারে সিসি বলেন, 'আমি আপনাদের বলতে চাই, মুসলিম ব্রাদারহুডকে আমি শেষ করিনি। আপনারা, মিসরীয়রাই এটাকে শেষ করেছেন।' সহিংস জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন সিসি। তাঁর দাবি, তাঁকে হত্যার দুটি ব্যর্থ ষড়যন্ত্র উন্মোচিত হয়েছে। ২৬-২৭ মে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনে সিসি সহজ জয় পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছরের জুলাইয়ে রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুসলিম ব্রাদারহুড-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন সিসি। মুরসি ও মুসলিম ব্রাদারহুডের বহু নেতা-কর্মী বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করেছে মিসরের কর্তৃপক্ষ।

ঐশ্বরিয়ারা যে হাসপাতালে যান

ভারতে বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে, যেগুলোর বিলাসিতা ও জৌলুস রীতিমতো পাঁচতারকা হোটেলের মতো। এমনই একটি হাসপাতালে মা হয়েছেন বলিউড তারকা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। সেভেন হিলস নামের ওই হাসপাতালে একটি স্যুটে এক রাত অবস্থানের খরচা ২০ হাজার রুপি। এর সঙ্গে শুল্ক তো আছেই। আজ মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিত্তশালীরা অসুস্থ হলে এসব বিলাসবহুল হাসপাতালে যান। হাসপাতালগুলো রোগীদের চিকিত্সার চেয়েও বেশি কিছু দেয়। ভিন্ন ধারার এই হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে টাকাও লাগে কাঁড়ি কাঁড়ি। গরিবদের পক্ষে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়। বিলাসবহুল ওই হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপোলো হাসপাতাল লিমিটেড, ফর্টিস লা ফেম, হিরানন্দনি হাসপাতাল, সেভেন হিলস হাসপাতাল প্রভৃতি। এসব হাসপাতালে অভিজাত শ্রেণীর বিশিষ্ট রোগীদের জন্য এমন ব্যবস্থা রয়েছে, অসুস্থ অবস্থায় সেখানে বসেই কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বা মন্ত্রী তাঁর দপ্তর চালাতে পারবেন। বিলাসী বিছানা, চাহিদা অনুযায়ী খাবারদাবারের বাইরে হাসপাতালগুলোর প্রতিটি স্যুটে ওয়াইফাই, বড় এলইডি টিভিসহ অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির সমাহার ঘটানো হয়েছে। অ্যাপোলো হাসপাতালের একটি স্যুটে এক রাত কাটাতে খরচ পড়ে প্রায় ৩০ হাজার রুপি। দক্ষিণ দিল্লির ফর্টিস লা ফেমে এই খরচ প্রায় ৩৭ হাজার রুপি। এই খরচে নয়াদিল্লির পাঁচতারকা হোটেল দ্য ওবেরয়ে দুই রাত থাকা যায়। মুম্বাইয়ের হিরানন্দনি হাসপাতালের একটি স্যুটে এক রাত থাকার খরচ আসে ৩০ হাজার রুপি। সেভেন হিলস হাসপাতালে এই খরচ ২০ হাজার রুপি। আর এই খরচের মধ্যে শুল্ক অন্তর্ভুক্ত নয়। ফর্টিস লা ফেমে সন্তান জন্ম দেওয়ার দুই দিনের একটি প্যাকেজ আছে। এতে খরচ আসতে পারে চার-পাঁচ লাখ রুপি। অ্যাপোলো হাসপাতালের পরিচালক অনুপম সিবাল দাবি করেন, তাঁদের সেবার মান অন্য সব হাসপাতালের চেয়ে ভালো। তাঁরা রোগীকে ভিন্ন স্বাদ দেন। দেশ, জাতি, ভাষা এমনকি ধর্মভেদে বিভিন্ন রোগীর চাহিদার সবকিছুই মেটানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। ফর্টিস লা ফেম হাসপাতালের এক কর্মকর্তার দাবি, তাঁদের দেওয়া কিছু সুযোগ-সুবিধা বিশ্বের মধ্যে সেরা।

এরশাদের বিকল্প খুঁজছে জাপা by শেখ সাবিহা আলম @প্রথম আলো

দলে 'গণতন্ত্র' আনতে সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিকল্প খুঁজছে জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশ। দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ৩৯-এর ক ধারায় দলের যেকোনো বিষয়ে চেয়ারম্যানকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া আছে। ডিসেম্বরে জাতীয় পার্টির কাউন্সিলে এ ধারাটি পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এতে চেয়ারম্যানের ক্ষমতাও খর্ব হবে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক সদস্য বলেছেন, তাঁরা মনে করেন জাতীয় পার্টিতে চেয়ারম্যান পদে এরশাদ থাকায় দলটি সংগঠিত হতে পারছে না। এরশাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা আছে। এরশাদ যখনই সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে যান, তখন তাঁকে মামলার ভয় দেখানো হয়। তিনিও এতে 'বিচলিত' হয়ে পড়েন। দলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মনে করেন, এরশাদের জায়গায় আর কেউ দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নিলে জাতীয় পার্টি স্বাধীনভাবে চলতে পারবে। এ ছাড়া সম্প্রতি জাপার সভাপতিমণ্ডলী ও সাংসদদের যৌথসভায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য ও এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ প্রকাশ্যে নিজের ইচ্ছামতো দল চালানোর জন্য এরশাদকে গালমন্দ করেন। ওই দিনই দলটি থেকে ঘোষণা আসে এখন থেকে জাতীয় পার্টি গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করবে।
জাতীয় পার্টির সাংসদ ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর দলটির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু অবশ্য চেয়ারম্যান পদে কোনো পরিবর্তন হবে কি না অথবা গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আসছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান। তবে তিনি বলেন, দেশের কোনো বড় দলেই গণতন্ত্র নেই। জাতীয় পার্টি দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়। ডিসেম্বরে দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সেই কাউন্সিলেই গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত আসবে। এর আগে জাতীয় যুবসংহতির কাউন্সিলে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি গ্রহণের পর কাউন্সিলের দিন এরশাদ ঠিক করে দেন যুবসংহতির সভাপতি কে হবেন। তবে জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু বলেছেন, সে সময় তিনি মহাসচিব ছিলেন না। এখন থেকে যা কিছু হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হবে। নয় বছর 'সফল'ভাবে দেশ পরিচালনার পরও কেন জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসছে না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। যেখানে ত্রুটি আছে, সেই ত্রুটি দূর করতে হবে।
পানিসম্পদমন্ত্রী, সাংসদ ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদও বলেছেন, জাতীয় পার্টি এখন থেকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চলবে। তবে দলে রদবদল এনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি বলেন, জাপা এখন থেকে জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বলবে, রাস্তায় নামবে। এভাবে দলও সংগঠিত হবে, জনসম্পৃক্ততাও বাড়বে। তবে, 'নতুন' জাতীয় পার্টির হাল ধরবেন কে, সে ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে কেউ কিছু বলছেন না। সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, দলের দায়িত্ব এরশাদের স্বজনদের হাতে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এ ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের পছন্দ তাঁর ভাই জি এম কাদের। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় পার্টির নিয়ন্ত্রণ এরশাদের হাতের বাইরে চলে গেছে। রওশন এরশাদের নেতৃত্বে দলটি নির্বাচনে অংশ নেয়। দলের একটি অংশ চায় রওশন এরশাদ দলের হাল ধরুন। অন্য অংশটি চায় জাতীয় পার্টির সরকারপন্থী অংশটির নেতৃত্ব যাঁরা দিচ্ছেন, তাঁরাই দলের নেতৃত্বে আসুন। আবার জাতীয় পার্টির কিছু সদস্য চান এরশাদের ভাই জি এম কাদের দলের নেতৃত্ব দিন। প্রায় পাঁচ মাস লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা জি এম কাদের হঠাত্ গত ১ মে জাতীয় শ্রমিক পার্টির সমাবেশে হাজির হন। তবে উত্তরাঞ্চলীয় জেলা থেকে নির্বাচিত জাতীয় পার্টির সাবেক এক সাংসদ প্রথম আলোকে বলেন, চেয়ারম্যানকে সরানোর জন্য একটি চক্র তত্পর রয়েছে। কিন্তু জাতীয় পার্টিকে মানুষ চেনে এরশাদের নামেই। এখানে আর কেউ এলে দল সংগঠিত হবে—এ ভাবনা অমূলক।
এ বিষয়ে এরশাদ কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি পদত্যাগ করেছেন—এমন গুজব রটার পর এরশাদ পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন, 'কার কাছে পদত্যাগ করব, সেই বীরপুরুষটা কে?' এর আগে এরশাদ তাঁর অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যান কে হবেন, সে নিয়ে 'গোটা জাতিই গোলকধাঁধার মধ্যে' শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে ওই প্রবন্ধে তিনি তাঁর ভাই জি এম কাদেরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, 'উকিলের ছেলে উকিল, ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার, ব্যবসায়ীর ছেলে ব্যবসায়ী হতে পারলে রাজনীতিকের সন্তান বা তার আত্মীয়স্বজন রাজনীতি করতে পারবে না কেন? সেখানে অবশ্য দেখতে হবে নেতৃত্ব গঠনটা কি উত্তরাধিকারসূত্রে হয়েছে, না যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়েছে? জি এম কাদের রাজনীতিতে এসেছেন, নির্বাচন করেছেন। দুইবার এমপি হিসেবে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছেন। দল যদি মনে করে জি এম কাদের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য উপযুক্ত তাহলে তা-ই হবে।' এরশাদের ইঙ্গিত এখানে খুব পরিষ্কার।

শ্রম প্রতিমন্ত্রীর বোধোদয়!

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু অকপটে স্বীকার করেছেন, তিনি কিছুদিন আগেও গৃহকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। কিন্তু সম্প্রতি গৃহকর্মীদের এক সমাবেশে গিয়ে তাঁর বোধোদয় হয়েছে। তিনি এখন মনে করেন, গৃহকর্মীদেরও নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ছুটি থাকা উচিত। আজ সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গণসাক্ষরতা অভিযান এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ আয়োজনের এক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমার বাসায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যে কাজ করে একটু কিছু হলেই তাকে ঠাস করে চড় মারতাম। একটু কিছু হলে আমার ওয়াইফও মারত, গালি দিত। দুই মাস আগে গৃহকর্মীদের এক সমাবেশে যাই। এক গৃহকর্মী আমাকে বলে, "বাসায় টেলিভিশন, ফ্রিজেরও নির্দিষ্ট জায়গা থাকে। কিন্তু আমি কই ঘুমাব সেই জায়গা নাই। একেক দিন একেক জায়গায় ঘুমাই।" সেই গৃহকর্মীর কথা শুনে মনে হলো, বাসায় যে কাজ করে তার কর্মঘণ্টা থাকবে, সাপ্তাহিক ছুটি লাগবে, আমি তো তা চিন্তা করি নাই!'
রাজধানীর অভিজাত একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত পলিসি ডায়ালগে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমার এ কথা আপনারা অন্যভাবে নেবেন না। আমি এত বছর ধরে রাজনীতি করি। সমাবেশে কত কথা বলি। ওয়ার্ক পেপার বানাই। গৃহকর্মীদের কথা কখনোই বলি নাই। আসলে সবার ঘর থেকেই শুরু করতে হবে।' বিশ্বব্যাংকের 'দি ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৩: জবস' প্রতিবেদনের বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য দাতা সংস্থা, সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিনিধিসহ অংশীদারদের সঙ্গে এ ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়। মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, গৃহকর্মীদের জন্য সুরক্ষাবিষয়ক একটি নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এ নীতিমালার আলোকে একটি আইন করা হবে। কৃষিশ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
পোশাকশিল্প কারখানা তৈরি, কর্মসংস্থান, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো কোনো সরকারের আমলেই সুপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়নি বলে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত যে সরকার ক্ষমতায় আসে তারা স্থিতিশীল ছিল না। ১৯৯০-এর পরে স্থিতিশীলতা আসে। দক্ষতা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় যে কাউন্সিল তার সভাও নিয়মিত হয় না। এর ফলে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক ভালো নীতি আছে। রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে নীতির বাস্তবায়ন হয় না। পোশাকশিল্প কারখানার কর্মপরিবেশ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমি বিভিন্ন কারখানায় যাই। নারীরা কেমনে, কী পরিবেশে কাজ করে তা দেখার জন্য নারীদের মাঝে বসি। দীর্ঘক্ষণ বসার পর আমি ঘেমে যাই। তখন মালিককে বলি। একইভাবে নারীদের বাথরুমে যাই। নোংরা বাথরুম দেখলে লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ার কথা বলি।' ডায়ালগে সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে সাংসদ শিরীন আখতার, পোশাকশিল্প কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশি হিসেবে আমি লজ্জিত @প্রথম আলো

আতঙ্কের শহরে কান্নার রোল
একসঙ্গে সাত ব্যক্তি অপহরণের তিন দিন পর বুধবার নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলামসহ ছয়জনের লাশ পাওয়া যায়। ওই দিন শহরে স্বজন-সতীর্থদের কান্নার রোল পড়ে যায়। ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে পাঠক জে হোসেইনের মন্তব্য: বাংলাদেশের প্রশাসন এই কান্নার আওয়াজ কি শুনতে পাচ্ছে? প্লিজ, কিছু করেন।
সোলায়মান: পুলিশ প্রশাসন সচল হওয়ার পরও এতগুলো মানুষকে কীভাবে শীতলক্ষ্যায় নিয়ে ডোবানো গেল? তাহলে খুনিরা প্রশাসনের ভেতরেই রয়েছে—এ সন্দেহ করলে কি অমূলক হবে?
মো. মনিরুল হাসান: চারদিকে শকুন, হায়েনার জয়জয়কার; সাধারণ মানুষের কলিজা ঠুকরে খাচ্ছে। আমরা কি এই আতঙ্ক রেখে যাচ্ছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য?
মো. জহিরুল ইসলাম: রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? এই প্রশ্নের উত্তর কি সরকার জানে না?
রাজু: বাংলাদেশি হিসেবে আমি লজ্জিত। আল্লাহ, আপনি এই জালেমদের হাত থেকে আমাদের ও দেশকে রক্ষা করেন।
মাহফুজা বুলবুল: 'সব লাশের হাত-পা ছিল দড়ি দিয়ে বাঁধা, পেট চেরা। মনে পড়ছে কিশোর ত্বকীকে। তাকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ত্বকীর মা-বাবা এখনো ত্বকীর হত্যাকারীদের হুমকি মাথায় নিয়ে বিচারের আশায় কাঁদছেন। ত্বকী হত্যার বিচার হলে আজকের এ নৃশংস ঘটনা নারায়ণগঞ্জবাসীকে দেখতে হতো না।
'মাঝে মাঝে লোডশেডিং ভালো'
অতীত স্মরণ রাখতে মাঝে মাঝে কিছুটা লোডশেডিং হওয়া ভালো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। এর সমালোচনা করে পাঠক আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের লিখেছেন: মানুষ ব্যর্থ হলে লজ্জিত হয়, উত্তীর্ণ হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে। আর এসব মানুষ ও তাঁর দল মানুষের কষ্ট নিয়ে উপহাস করে।
মাহফুজা বুলবুল: অতীতকে স্মরণ করবে শুধু সাধারণ জনগণ, তা সে যে অতীতই হোক। আর ভাগ্যবান ক্ষমতাসীনেরা ক্ষমতার স্বাদ-গন্ধে বিভোর হয়ে থাকবেন।
সোহেল: মাঝে মাঝে লোডশেডিং হলে খাম্বা যুগের মোমবাতি মিছিলের কথা মনে পড়ে!
সুজন: সাধারণ পাবলিকের ঘরে এসে গরমের যন্ত্রণা উপভোগ করে এমন মন্তব্য করতে পারলে
আপনার কথা মেনে নেব।
এস দেওয়ান: ঠিকই বলেছেন। লোডশেডিং না হলে মানুষ বিদ্যুৎচালিত জিনিসগুলো বন্ধ করতে চায় না। লোডশেডিং হলে ওই সব জিনিস শীতল হওয়ার সুযোগ পায়।
মো. হাসনাইন ফয়সাল: লোডশেডিংটা শীতকালে দিলে হতো না!! গরমে মানুষকে কষ্ট দিয়ে লাভ কি?
কামাল: জনগণের সেবা খোলা মন নিয়েই করতে হয়। আপনাদের হাতে চাবি আছে, তাই অসহনীয় গরমে লোডশেডিং দিয়ে অতীত মনে করাতে চান। তাহলে সাধারণ জনতাও দিন গুনতে থাকবে, কবে সময় আসবে সেই চিন্তায়। দেশকে আর দেশের মানুষকে ভালোবাসেন, কাজ করেন দেশসেবার মানসিকতা নিয়ে। সাধারণ জনতা কিছুই ভোলে না।
রুবাইয়াত হাসান: মাঝে মাঝে সরকার বদল হওয়া ভালো! তাহলে দুঃশাসনটা মানুষ ভুলে যাবে না!
ভারতের পরবর্তী পররাষ্ট্রনীতি
ভারতের নির্বাচনে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি কেমন হতে পারে—এ ব্যাপারে এই কলামে আলোকপাত করেছেন যশবন্ত সিং। তিনি ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ব্যাপারে আসিফুল হকের মন্তব্য: প্রতিবেশীকে বিপদে ফেলে কেউ শান্তিতে থাকতে পারে না। বাংলাদেশকে বিপদে ফেলা হলে আপনারা নিজেদের দেশেরই বিপদ ডেকে আনবেন। এই সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া আর আপনাদের সেনাবাহিনী দিয়ে সেই বিপদ থেকে রক্ষা পাবেন না।
এছলাম সরকার: সাফ কথার মানুষ যশবন্ত সিং কূটনীতির ঘোমটা পরতে পছন্দ করেন না। এখানে তিনি যে সরল বক্তব্যটি দিয়েছেন, তার গরলার্থ হলো, এই অঞ্চলে ভারতকে আঞ্চলিক পুলিশ হতে হবে।
তবে এই আকাঙ্ক্ষার সবচেয়ে বড় বাধা যে চীনারা, এটি ভারতের সামরিক পরিকল্পকেরা জানেন। ইসরায়েল-আমেরিকার অধীনে সন্ত্রাস দমনের প্রশিক্ষণের নামে আধুনিক অস্ত্র ক্রয় সত্ত্বেও এক চীনা ধাক্কায় যে সব ঝরঝর করে ভেঙে পড়বে।
প্রবীর পাল: সরকার পরিবর্তন হলেও বড় গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন খুব ঝট করে হয় না। তাই অযথা ভয়ে জর্জরিত হওয়ার কিছু নেই।

দু-একজনের কর্মকাণ্ডে র‌্যাবের ভাবমূর্তি ম্লান হবে না: আমু

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, র‌্যাব বিভিন্ন সময় কাজ করে যে সম্মান অর্জন করেছে, তা দু-একজনের কর্মকাণ্ডে কোনোভাবেই ম্লান হবে না। আজ সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সচিবালয়ে বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শিল্পমন্ত্রী। র‌্যাবের সদস্যরা ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে হত্যা করেছে—নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলামের এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে কথা বলেন আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, অনেকে অনেক রকমের অভিযোগ করছে। প্রত্যেক অভিযোগকেই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যদি কোনো র‌্যাব কর্মকর্তা বা অন্য কেউ জড়িত থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা র‌্যাব বন্ধ করার যে প্রস্তাব দিয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, 'আমেরিকায় যেসব ঘটনা ঘটছে, তারা সেসব নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। এ দেশের বিষয় আমরা দেখব।' আমির হোসেন আমু বলেন, নারায়ণগঞ্জের ঘটনার সঠিক তথ্য উদ্ধার করা হবে। যথাযথ বিচারের মাধ্যমে প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তত্পর রয়েছে। তদন্তকাজ চলছে। সঠিক তথ্য উদ্ধার হলেই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে। শিল্পমন্ত্রী জানান, আজকের বৈঠকে অস্ত্র, মাদক, ইয়াবাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সীমান্তে যেসব ইয়াবা কারখানা রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মোদি সরকার গড়লে সঙ্গে থাকবেন মমতা!

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের বারানসি আসনের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ইন্দিরা তিওয়ারি বলেছেন, মোদি সরকার গড়লে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর (মোদি) সঙ্গে থাকবে। কলকাতার একটি সংবাদপত্রের সঙ্গে আলাপকালে ইন্দিরা এ কথা বলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের ওই প্রার্থী বলেন, 'কেন্দ্রে মোদির সরকার হলে সেই সরকারে যাবেন মমতা, লিখে নিন।' বারানসি থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, তৃণমূলের প্রার্থী ইন্দিরা তিওয়ারি বারানসিতে ঘোষণা করেছেন, 'দেশের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী আসছেন। তিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আমাকে নয়, মমতাদির কথা মনে করে তৃণমূলে একটি ভোট দিন।'
খবরে জানা যায়, ইন্দিরা তিওয়ারি এখন বাঙালিপাড়া আর মুসলিম ভোটারদের কাছে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যদিও অধিকাংশ বাঙালিই এবার ঝুঁকে পড়েছেন মোদির দিকে। এবার ভারতের লোকসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে উত্তর প্রদেশের বারানসি আসনটি। কারণ এই আসনে এবার লড়ছেন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি। আরও লড়ছেন প্রধানমন্ত্রীর দাবিদার আম আদমি পার্টির (্এএপি) অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সব মিলিয়ে এই আসনের প্রার্থী ৪২ জন। এই তালিকায় ১০ নম্বরে আছেন ইন্দিরা তিওয়ারি। ইন্দিরা তিওয়ারি উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কমলাপতি ত্রিপাঠির আত্মীয়। তিনি হিন্দু মহাসভার একজন সংগঠক। তিনি ভালো বাংলা জানেন। বারানসির বাঙালিপাড়ায় জন্ম তাঁর।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. X2News Blog - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু